দিরাই-শাল্লা(সুনামগঞ্জ)প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের শাল্লায় ১নং আটগাঁও ইউনিয়নের অন্তগত কাশীপুর লাইয়ার দিঘা গ্রুপের (সত্তুয়া) জলমহালে প্রশাসনের সামনেই খলাঘরে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (৭মার্চ) সকালে দ্বিতীয় দফায় বিক্ষোভ জনতা জোরপূর্বক মাছ লুট করার সময় পুলিশ ও প্রশাসনের সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে কয়েকজন পুলিশ আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এই ঘটনার পর পরই সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার তোফায়েল আহমেদ ও জেলা প্রশাসক ড.মোঃ ইলিয়াস মিয়া,দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আব্দুর রাজ্জাক,শাল্লা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শফিকুল ইসলাম ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
পলো বাইছের নামে শাল্লায় বেশ কয়েকটি জলমহালের মাছ লুটপাট করেছে স্থানীয় দুর্বৃত্তরা। গত কয়েকদিনে সুনামগঞ্জের দিরাই ও শাল্লা উপজেলার ১২টি বিলে মাছ লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সকালেও শাল্লা উপজেলার কাশীপুর লাইয়ার দিঘা গ্রুপের (সত্তোয়া) বিলে মাছ লুটপাট করার উদ্দেশ্য এক সাথে কয়েক হাজার মানুষ জড়ো হয়। এসব বিল থেকে কমপক্ষে ১০ কোটি টাকার মাছ লুট হয়েছে বলে দাবি জলমহাল ইজারাদারের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দিরাইয়ের কামান বিলে মাছ লুটপাটের মধ্য দিয়ে জলমহাল লুটের উৎসব শুরু হয় এই দুই উপজেলায়। কাগজপত্রে এই বিলের ইজারাদার চরনারচর বিএম মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড। সমিতির নামে ইজারা থাকলেও সমিতির আড়ালে এই জলমহালের মালিক হিসেবে রয়েছেন দিরাই পৌরসভার সাবেক মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা মোশারফ মিয়া ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি জয় কুমার বৈষ্ণব।
এভাবে গেল কয়েকদিনে একে একে উদীর হাওর (মুরগা নদী), সত্তোয়া, জয়পুর-আতনি, বেতইর নদী, লামা বেতইর, হালুয়া-ঘাটুয়া, দিরাই-চাতল, কলকলিয়া, বড়গাঁও-ইয়ারাবাদ গ্রুপ ও জোয়ারিয়া, ও বালি বিলে লুটপাট চালায় দুর্বৃত্তরা।
চরনারচর বিএম মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি সুধীর বিশ্বাস জানান, বছরে এ জলমহালে বার্ষিক ৫০ লাখ টাকা রাজস্ব জমা দেন তারা। এবার নিয়ে ছয় বছর হয় বিলের ইজারায় রয়েছে তাদের সমিতি। ইজারা নিতে অনেক টাকার প্রয়োজন, এজন্য ‘বছর-বছর চুক্তিতে’ আওয়ামী লীগ নেতা মোশারফ মিয়া ও জয় কুমার বৈষ্ণবকে শেয়ার রেখেছেন তারা। শুক্রবারের ঘটনায় তার বিল থেকে দুই থেকে আড়াই কোটি টাকার মাছ লুট হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
উদীর হাওরের ইজারাদার সুধীর রঞ্জন দাস বলেন, ১৮ বছর হয় বিলের ইজারাদার তাদের সমিতি। এ বছর ৯০ লাখ টাকা ইজারামূল্য ছিল। ইতোমধ্যে এক কোটি টাকার মাছ তারা আহরণ করেছেন। লুট হয়েছে কমপক্ষে তিন কোটি টাকার মাছ। এই লুটপাটে কমপক্ষে ২০ গ্রামের মানুষ ছিল। এমনকি আওয়ামী লীগের কিছু সমর্থককেও জলমহাল লুটপাটে অংশ নিতে দেখা গেছে বলে জানান তিনি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাদের জলমহালে দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কামাল উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ রায়ের পুঁজি রয়েছে।
তবে ঘটনাস্থলে এসে পুলিশ সুপার তোফায়েল আহমেদ সবার উদ্দেশ্যে বলেন আপনারা আর কেউ মাছ ধরতে যাবেন না,আপনার আইনের প্রতি শ্রদ্ধা করুন প্রশাসন কে সহযোগিতা করুন।
ঘটনাস্থলে এসে জেলা প্রশাসক ড. মোঃ ইলিয়াস মিয়া জুমায়ার নামজের পর স্থানীয় শ্যামারচর বাজার জামে মসজিদে সবার উদ্দেশ্য বলেন কেউ যেন এমন কর্মকাণ্ডে না জড়ায়,দেশের পরিবেশ শান্ত রাখতে হবে, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রাখতে হবে। পাশাপাশি যারা এসবের ইন্ধন দিচ্ছে তাদের বিচার হবে। জেলা প্রশাসক আরো বলেন, জলমহাল লুটপাটের ঘটনায় ইজারা কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ইজারাদাররা যদি মামলা করেন, আমরা আইনানুগভাবে শক্ত ব্যবস্থা নেব। যাতে এ ধরনের দুষ্কৃতিকারীরা ছাড় না পায়। লুটের আশঙ্কায় থাকা অন্য বিলগুলোর দিকে নজর রাখতে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও গ্রাম পুলিশকে বলা হয়েছে। স্থানীয় চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কেউ যাতে এ ধরনের ঘটনায় যুক্ত না হন এবং রাষ্ট্রের রাজস্বের ক্ষতি না করেন।