ঢাকা , শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
Logo দিরাইয়ে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণামূলক সেশন অনুষ্ঠিত Logo শান্তিগঞ্জের ৭নং পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নবাসীর খাদেম হতে চান আব্দুল্লাহ আল-নোমান Logo জনকল্যাণে নিবেদিত প্রাণ আব্দুস সালাম, মেম্বার পদে সম্ভাবনার আলো Logo এসেড হবিগঞ্জ কর্তৃক সুনামগঞ্জ জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলায় বাস্তবায়নাধীন এনরিচ (ENRICH) প্রকল্পের আওতায় কৃষক উদ্বুদ্ধকরণ ভ্রমণ (Farmers’ Exposer Visit) অনুষ্ঠিত Logo শান্তিগঞ্জে সোনাই মিয়ার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার Logo গণহত্যা দিবসে শান্তিগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ তালেব ও কৃপেন্দ্র দাশের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ Logo সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার উন্নতি Logo শ্রী রামকৃষ্ণদেবের ১৯১তম আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে বার্ষিক উৎসব পালিত Logo ঈদুল ফিতরে দিরাইয়ের আনোয়ারপুরে পারিবারিক মিলনমেলা,আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন Logo শান্তিগঞ্জের শিমুলবাঁকে গুণীজন ও প্রবাসী সংবর্ধনা সম্পন্ন

দুই দশকের লড়াইয়ের পর ব্রিটে‌নে বসবা‌সের অনুম‌তি পে‌লেন পটুয়াখালীর সাইফুল

যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) ভুলে দীর্ঘ ২০ বছর আইনি লড়াই ক‌রে অব‌শেষে দেশটিতে বসবা‌সের অনুম‌তি পে‌য়ে‌ছেন পটুয়াখালীর বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম। তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির মামলা দায়ের হলে পরে তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়। তবে আদালতে নির্দোষ প্রমাণিত হলেও প্রথমে তাকে সেখানে রাখতে রাজি ছিল না ব্রিটিশ সরকার। বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও নিজেদের ভুলের খেসারত হিসেবে সাইফুলকে মাত্র ৬ হাজার পাউন্ড ক্ষতিপূরণ দিয়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেয় দেশটির সরকার। মিথ্যা মামলা আর ভোগান্তির মধ্যে জীবনের ২০ বছর পার করে দেওয়া সাইফুল অবশেষে গত ২৮ মার্চ ব্রিটে‌নে বসবা‌সের অনুমতি পেয়েছেন। ব্রিটিশ হোম অফিস এক চি‌ঠি‌তে সাইফুলকে বিষয়‌টি নি‌শ্চিত ক‌রেছে।সাইফুল ইসলামের বাড়ি পটুয়াখালীর কলাপাড়া থানায়। জীবিকার তাগিদে ২০০৩ সালে ব্রিটেনে পাড়ি জমান। শেফ হিসেবে চাকরি নেন একটি রেস্তোরাঁয়। তবে ভাগ্য বেশি দিন সহায় হয়নি। পড়ে যান যৌন হয়রানির মিথ্যা মামলায়। ব্রিটেনে থাকতে শেষ পর্যন্ত তাকে সবমিলিয়ে ১৮টি মামলা লড়তে হয়। শেষ পর্যন্ত ব্রিটেনের আদালতে প্রমাণিত হয়, দেশটির হোম অফিসে সাইফুলের জমা থাকা কয়েকটি কাগজ ‘ভুল করে’ মিশে যায় অন্য তিন অপরাধীর কাগজপত্রের সঙ্গে, এতেই বাঁধে বিপত্তি। অবশেষে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ব্রিটিশ হোম অফিস কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার জন্য সাইফুলের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমাও চেয়েছে।২০১৯ সালে সাইফুলকে বাংলাদেশে ফেরার নির্দেশ দেয় ব্রিটিশ সরকার। ভুলের ক্ষতিপূরণ হিসেবে সাইফুলকে ৫ হাজার পাউন্ড দেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত। তবে এই রায়কে ‘অন্যায্য’ আখ্যা দিয়ে আদালতের বাইরে, ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ও ব্রিটিশ সুপ্রিম কোর্ট, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে হ্যান্ড মাইক হাতে বিক্ষোভ করেন সাইফুল। এরই মধ্যে হাউস অব কমন্সের একাধিক সদস্য, ওয়েলসের ফাস্ট মিনিস্টারসহ অনেকে তার প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে চিঠি দেন। সাইফুলের প্রতি এ অন্যায্যতা নিয়ে ব্রিটেনের মূলধারার সংবাদমাধ্যম বিবিসি, স্কাই নিউজ ও গার্ডিয়ানে খবর প্রকাশিত হয়। সাইফুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ভুল অভিযোগে ১৮টি মামলায় লড়তে গিয়ে আমার জীবন থেকে ২০টি বছর হারিয়ে গেছে। এখন আমি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।’ এই দীর্ঘ সময়ে একবারও দেশে ফিরতে পারেননি তিনি। ব্রিটেনে তার কোনও আত্মীয়-স্বজনও নেই। সাইফুল জানান, লন্ডনে আসার আগে সর্বশেষ ঢাকার মৌচাকে ইউরো গার্ডেন নামে একটি রেস্তোরাঁয় কাজ করতেন।তিনি বলেন, ‘ব্রিটেনে আসার আগে প্রায় এক যুগ দক্ষ শেফ হিসেবে ঢাকার বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় কাজ করেছি। ব্রিটিশ সরকার আমাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়ে দিলেও কাজ করে খেতে পারতাস। এ দেশে থাকলেও কাজ করেই খেতে হবে। সেটা কোন বিষয় না। ব্রিটেনের হোম অফিসের অবহেলা, ভুল ও দীর্ঘসূত্রিতার কারণে বহু বাংলাদেশি পরিবার বিপর্যস্ত হয়েছে। মানুষ সীমাহীনভাবে ভুক্তভোগী। অনেকেই হাল ছেড়ে দেয়। কিন্তু আমি ছাড়িনি। অবশেষে অনুমতি পেয়েছি, এটাই আনন্দ।’

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

Janasarthe 24

আপনাদের আশে পাশে ঘটে যাওয়া প্রতি মুহুর্তের খবর দিয়ে আমাদের সহযোগীতা করুন। আমরা আমাদের অনলাইনে তা প্রকাশ করে কৃতজ্ঞ হবো। আমাদের প্রতি মুহুর্তের খবর জানতে আমাদের সাথে থাকুন

দিরাইয়ে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণামূলক সেশন অনুষ্ঠিত

দুই দশকের লড়াইয়ের পর ব্রিটে‌নে বসবা‌সের অনুম‌তি পে‌লেন পটুয়াখালীর সাইফুল

আপডেট সময় ১২:১৫:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ এপ্রিল ২০২৩

যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) ভুলে দীর্ঘ ২০ বছর আইনি লড়াই ক‌রে অব‌শেষে দেশটিতে বসবা‌সের অনুম‌তি পে‌য়ে‌ছেন পটুয়াখালীর বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম। তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির মামলা দায়ের হলে পরে তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়। তবে আদালতে নির্দোষ প্রমাণিত হলেও প্রথমে তাকে সেখানে রাখতে রাজি ছিল না ব্রিটিশ সরকার। বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও নিজেদের ভুলের খেসারত হিসেবে সাইফুলকে মাত্র ৬ হাজার পাউন্ড ক্ষতিপূরণ দিয়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেয় দেশটির সরকার। মিথ্যা মামলা আর ভোগান্তির মধ্যে জীবনের ২০ বছর পার করে দেওয়া সাইফুল অবশেষে গত ২৮ মার্চ ব্রিটে‌নে বসবা‌সের অনুমতি পেয়েছেন। ব্রিটিশ হোম অফিস এক চি‌ঠি‌তে সাইফুলকে বিষয়‌টি নি‌শ্চিত ক‌রেছে।সাইফুল ইসলামের বাড়ি পটুয়াখালীর কলাপাড়া থানায়। জীবিকার তাগিদে ২০০৩ সালে ব্রিটেনে পাড়ি জমান। শেফ হিসেবে চাকরি নেন একটি রেস্তোরাঁয়। তবে ভাগ্য বেশি দিন সহায় হয়নি। পড়ে যান যৌন হয়রানির মিথ্যা মামলায়। ব্রিটেনে থাকতে শেষ পর্যন্ত তাকে সবমিলিয়ে ১৮টি মামলা লড়তে হয়। শেষ পর্যন্ত ব্রিটেনের আদালতে প্রমাণিত হয়, দেশটির হোম অফিসে সাইফুলের জমা থাকা কয়েকটি কাগজ ‘ভুল করে’ মিশে যায় অন্য তিন অপরাধীর কাগজপত্রের সঙ্গে, এতেই বাঁধে বিপত্তি। অবশেষে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ব্রিটিশ হোম অফিস কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার জন্য সাইফুলের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমাও চেয়েছে।২০১৯ সালে সাইফুলকে বাংলাদেশে ফেরার নির্দেশ দেয় ব্রিটিশ সরকার। ভুলের ক্ষতিপূরণ হিসেবে সাইফুলকে ৫ হাজার পাউন্ড দেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত। তবে এই রায়কে ‘অন্যায্য’ আখ্যা দিয়ে আদালতের বাইরে, ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ও ব্রিটিশ সুপ্রিম কোর্ট, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে হ্যান্ড মাইক হাতে বিক্ষোভ করেন সাইফুল। এরই মধ্যে হাউস অব কমন্সের একাধিক সদস্য, ওয়েলসের ফাস্ট মিনিস্টারসহ অনেকে তার প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে চিঠি দেন। সাইফুলের প্রতি এ অন্যায্যতা নিয়ে ব্রিটেনের মূলধারার সংবাদমাধ্যম বিবিসি, স্কাই নিউজ ও গার্ডিয়ানে খবর প্রকাশিত হয়। সাইফুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ভুল অভিযোগে ১৮টি মামলায় লড়তে গিয়ে আমার জীবন থেকে ২০টি বছর হারিয়ে গেছে। এখন আমি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।’ এই দীর্ঘ সময়ে একবারও দেশে ফিরতে পারেননি তিনি। ব্রিটেনে তার কোনও আত্মীয়-স্বজনও নেই। সাইফুল জানান, লন্ডনে আসার আগে সর্বশেষ ঢাকার মৌচাকে ইউরো গার্ডেন নামে একটি রেস্তোরাঁয় কাজ করতেন।তিনি বলেন, ‘ব্রিটেনে আসার আগে প্রায় এক যুগ দক্ষ শেফ হিসেবে ঢাকার বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় কাজ করেছি। ব্রিটিশ সরকার আমাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়ে দিলেও কাজ করে খেতে পারতাস। এ দেশে থাকলেও কাজ করেই খেতে হবে। সেটা কোন বিষয় না। ব্রিটেনের হোম অফিসের অবহেলা, ভুল ও দীর্ঘসূত্রিতার কারণে বহু বাংলাদেশি পরিবার বিপর্যস্ত হয়েছে। মানুষ সীমাহীনভাবে ভুক্তভোগী। অনেকেই হাল ছেড়ে দেয়। কিন্তু আমি ছাড়িনি। অবশেষে অনুমতি পেয়েছি, এটাই আনন্দ।’