ঢাকা , শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
Logo ছাতকে থানা পুলিশের অভিযানে রাজনৈতিক ও সিআর মামলায় গ্রেফতার ২ Logo ভূমিকম্পে ঝুঁকিপূর্ণ বাংলাদেশ: সতর্কতা ও প্রস্তুতির প্রয়োজন – ইমরান হোসেন হিমু Logo শান্তিগঞ্জে যুক্তরাজ্য বিএনপি’র অন্যতম সহ-সভাপতি এম,এ ছাত্তারের পক্ষে গণসংযোগ Logo অপারেশন ডেভিল হান্ট, শান্তিগঞ্জে আ.লীগের উপদেষ্টা ছোয়াব আলী গ্রেফতার Logo শান্তিগঞ্জে জমি সংক্রান্ত জেরে দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১৫ Logo শান্তিগঞ্জে স্কুল ছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু-ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার Logo শান্তিগঞ্জে বিএনপির মতবিনিময় সভা Logo বিমসটেক ও বাংলাদেশ: নেতৃত্বের নতুন দিগন্ত Logo শান্তিগঞ্জে ধান শুকানোর জায়গা দখল নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ২০ Logo জেলা পুলিশ লাইন্সে ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত

সুনামগঞ্জে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে ধীর গতি নিয়ম রক্ষার উদ্বোধন, গঠিত হয়নি পিআইসি কমিটি

মহসিন রেজা মানিক, সুনামগঞ্জ থেকে
খাদ্য শষ্য উৎপাদনে উদ্ধৃত জেলা সুনামগঞ্জ। বোরোর ভান্ডার হিসেবেও অভিহিত করা হয় এই জেলাকে। হাওর অধ্যুষিত সুনামগঞ্জের ২২ লাখ মানুষের জীবন জীবিকা আবর্তিত হয় এই বোরো ফসলকে কেন্দ্র করে। বোরো ফসল বা বৈশাখী ধান গোলায় উঠলেই আনন্দেমাতে এখানকার কৃষক সমাজ। আবার দুর্যোগ দুর্বিপাক আগাম বন্যায় ফসল হারালে দুঃখেরও সীমা থাকেনা। এক কথায় হাওরবাসীর ভালো থাকা খারাপ থাকা নির্ভর করে এই বোরো ফসলের উপর। হাওরে বোরো ফসল বাঁচলে কৃষক বাঁচে। আর কৃষকদের সেই স্বপ্ন সাধের বোরো ফসল আগাম বন্যার হাত থেকে বাঁচাতে প্রয়োজন সঠিক সময়ে টেকসই বাঁধ নির্মান। সুনামগঞ্জের হাওরে ফসল রক্ষার সেই বাঁধ নির্মানে ধীর গতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে বাঁধ নির্মানে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। কাবিটা নীতিমালা অনুযায়ী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে বাঁধ নির্মানকারী পিআইসি কমিটি গঠন করার কথা থাকলেও অদ্যাবধি এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জেলার ১২ উপজেলার কোথাও পিআইসি কমিটির পুর্নাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। যদিও মাঝখানে ১৫ ডিসেম্বর নিয়ম রক্ষার বাঁধ নির্মান কাজ উদ্বোধন করা হয়েছে। বাঁধ নির্মানে কাজ শুরু করা তো দুরের কথা এক মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো বাঁধ নির্মানের প্রাথমিক কাজ পিআইসি গঠনই সমাপ্ত করা সম্ভব হয়নি। বরাবরের মতো এবারও বোরো ফসল রক্ষায় বাঁধ নির্মানে ধীর গতি ও অনিয়ম আতংকিত করে তুলেছে হাওরপাড়ের কৃষক সমাজকে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিভিন্ন বাঁধ এলাকা ঘুরে ও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায় জেলার প্রধান ৫৩ হাওরের কোথাও বাঁধ নির্মানের প্রাথমিক কাজও শুরু হয়নি। অথচ সময়মত বাঁধে মাটি ভরাট করতে না পারলে বাঁধ শক্ত পোক্ত হয় না। তড়িগড়ি করে বাঁধ নির্মানে পানির চাপ নিতে পারেনা দুর্বল বাঁধ। বিশেষ করে হাওরের বিভিন্ন ক্লোজার (বিপদজনক ভাংগা) মেরামত করতে হয় অন্তত ৩ মাস আগে।
কাবিটা নীতিমালা অনুযায়ী ৩০ নভেম্বর পিআইসি গঠন ও ১৫ডিসেম্বর কাজ শুরু করে ২৮ ফেব্রুয়ারীর মধ্যে কাজ শেষ করার নিয়ম রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের ধর্মপাশা উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম বলেন তার উপজেলায় পিআইসির পুর্নাঙ্গ তালিকা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে বিভিন্ন বাঁধে কাজ শুরুর দাবি করেন তিনি।
মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উজ্জ্বল রায় বলেন তার উপজেলায় দুটি বাঁধে কাজ শুরু হয়েছে। একটি হচ্ছে দক্ষিন বংশীকুন্ডা ইউনিয়নে অপরটি চামারদানি ইউনিয়নের ৩৩নং পিআইসি। তালিকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন উপজেলার ৩৪টি পিআইসি গঠনের কাজ শেষ দিকে দুএকদিনের মধ্যে পুর্নাঙ্গ তালিকা টানিয়ে দেয়া হবে।
জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুশফিকীন নুর জানান পিআইসি তালিকা প্রস্তুত আছে তবে সব জায়গায় এখনো কাজ শুরু করা যায়নি।
জেলা কাবিটা কমিটির সদস্য গনমাধ্যম কর্মী জসিম উদ্দিন জানান, অনিয়মের জন্য শাল্লায় কাজ স্থগিত ছিল, আমরা ক’জন গিয়ে সেটা সমাধান করে দিয়েছি। পরবর্তীতে আর কোন সমন্নয় করা হয়নি।
জেলা কাবিটা কমিটির আরেক সদস্য পরিবেশ কর্মী সালেহীন চৌধুরী শুভ বলেন বাঁধের বিষয়ে তাদেরকে অন্ধকারে রাখা হচ্ছে। কোথাও কাজ শুরু হয়নি। দিরাই উপজেলার গনমাধ্যমে কর্মী আনোয়ার হোসাইন জানান, দিরাই-শাল্লায় বাঁধের কোন কাজ শুরু হয়নি, যে বাঁধটি উদ্বোধন করা হয়েছে কেবল সেটিরই পিআইসি গঠন করা হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হালদার বলেন স্থানীয় সমস্যার কারনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগন পিআইসি তালিকা চুড়ান্ত করতে পারছেন না। এ কারণে কাজে বিলম্ব হচ্ছে। দুয়েকদিনের মধ্যে চুড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে বলে জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, সুনামগঞ্জের ৫৩ হাওরে ২ লাখ ২৩ হাজার ৪১০ হেক্টর আবাদযোগ্য জমির বোরো ফসল রক্ষার জন্য ৫৮৮ কি:মি: বাঁধ নির্মানে ৬৭৫টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। ১২৫ কোটি ১৯ লাখ ৪২ হাজার টাকা ব্যয়ে জেলার বড় হাওরগুলোর ফসল অকাল বন্যার কবল থেকে রক্ষা করতে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ২৮টি প্রকল্পের জন্য ৪ কোটি ৬৫ লাখ ৫৪ হাজার টাকা, তাহিরপুর উপজেলায় ৭৬টি প্রকল্পের জন্য ১২ কোটি ৫২ লাখ টাকা, জামালগঞ্জ উপজেলায় ৪০টি প্রকল্পের জন্য ৭ কোটি ১৬ লাখ টাকা, বিশ্বম্ভপুর উপজেলায় ২৫ টি প্রকল্পের জন্য ৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকা, ধর্মপাশা উপজেলায় ৮৬টি প্রকল্পের জন্য ১৯ কোটি ১৫ লাখ ২ হাজার টাকা, শান্তিগঞ্জ উপজেলায় ৬৩ টি প্রকল্পের জন্য ৯ কোটি ৮৬ লাখ ৩ হাজার টাকা, জগন্নাথপুর উপজেলায় ৩৯ টি প্রকল্পের জন্য ৬ কোটি ৮৯ লাখ ৬৯ হাজার টাকা, শাল্লা উপজেলায় ১১৫টি প্রকল্পের জন্য ১৭ কোটি ৮১ লাখ টাকা, ছাতক উপজেলায় ২৮টি প্রকল্পের জন্য ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা, মধ্যনগর উপজেলায় ৩৪ টি প্রকল্পের জন্য ৭ কোটি ২৮ লাখ ৩ হাজার টাকা, দোয়ারাবাজার উপজেলায় ৪৭ টি প্রকল্পের জন্য ৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকা, দিরাই উপজেলায় ৯৪ টি প্রকল্পের জন্য ২৪ কোটি ৮২ লাখ ৩৭ হাজার টাকা বরাদ্ধ অনুমোদন করা হয়। ২০১৭ সালের মার্চ মাসের শেষ ও এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে হাওরে বাঁধ নির্মানে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারনে আগাম বন্যায় সুনামগঞ্জের সবকটি হাওরের ফসল পানিতে তলিয়ে যায়। এর পর থেকে ঠিকাদারী প্রথা বিলুপ্ত করে ওই বছরই কাবিটা নীতিমালা ২০১৭ প্রনয়ন করা হয়। ২০১৮ সাল থেকে পিআইসির মাধ্যমে কাজ শুরু হয়।

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

Janasarthe 24

আপনাদের আশে পাশে ঘটে যাওয়া প্রতি মুহুর্তের খবর দিয়ে আমাদের সহযোগীতা করুন। আমরা আমাদের অনলাইনে তা প্রকাশ করে কৃতজ্ঞ হবো। আমাদের প্রতি মুহুর্তের খবর জানতে আমাদের সাথে থাকুন
জনপ্রিয় সংবাদ

ছাতকে থানা পুলিশের অভিযানে রাজনৈতিক ও সিআর মামলায় গ্রেফতার ২

সুনামগঞ্জে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে ধীর গতি নিয়ম রক্ষার উদ্বোধন, গঠিত হয়নি পিআইসি কমিটি

আপডেট সময় ০৬:৫৮:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৪

মহসিন রেজা মানিক, সুনামগঞ্জ থেকে
খাদ্য শষ্য উৎপাদনে উদ্ধৃত জেলা সুনামগঞ্জ। বোরোর ভান্ডার হিসেবেও অভিহিত করা হয় এই জেলাকে। হাওর অধ্যুষিত সুনামগঞ্জের ২২ লাখ মানুষের জীবন জীবিকা আবর্তিত হয় এই বোরো ফসলকে কেন্দ্র করে। বোরো ফসল বা বৈশাখী ধান গোলায় উঠলেই আনন্দেমাতে এখানকার কৃষক সমাজ। আবার দুর্যোগ দুর্বিপাক আগাম বন্যায় ফসল হারালে দুঃখেরও সীমা থাকেনা। এক কথায় হাওরবাসীর ভালো থাকা খারাপ থাকা নির্ভর করে এই বোরো ফসলের উপর। হাওরে বোরো ফসল বাঁচলে কৃষক বাঁচে। আর কৃষকদের সেই স্বপ্ন সাধের বোরো ফসল আগাম বন্যার হাত থেকে বাঁচাতে প্রয়োজন সঠিক সময়ে টেকসই বাঁধ নির্মান। সুনামগঞ্জের হাওরে ফসল রক্ষার সেই বাঁধ নির্মানে ধীর গতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে বাঁধ নির্মানে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। কাবিটা নীতিমালা অনুযায়ী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে বাঁধ নির্মানকারী পিআইসি কমিটি গঠন করার কথা থাকলেও অদ্যাবধি এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জেলার ১২ উপজেলার কোথাও পিআইসি কমিটির পুর্নাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। যদিও মাঝখানে ১৫ ডিসেম্বর নিয়ম রক্ষার বাঁধ নির্মান কাজ উদ্বোধন করা হয়েছে। বাঁধ নির্মানে কাজ শুরু করা তো দুরের কথা এক মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো বাঁধ নির্মানের প্রাথমিক কাজ পিআইসি গঠনই সমাপ্ত করা সম্ভব হয়নি। বরাবরের মতো এবারও বোরো ফসল রক্ষায় বাঁধ নির্মানে ধীর গতি ও অনিয়ম আতংকিত করে তুলেছে হাওরপাড়ের কৃষক সমাজকে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিভিন্ন বাঁধ এলাকা ঘুরে ও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায় জেলার প্রধান ৫৩ হাওরের কোথাও বাঁধ নির্মানের প্রাথমিক কাজও শুরু হয়নি। অথচ সময়মত বাঁধে মাটি ভরাট করতে না পারলে বাঁধ শক্ত পোক্ত হয় না। তড়িগড়ি করে বাঁধ নির্মানে পানির চাপ নিতে পারেনা দুর্বল বাঁধ। বিশেষ করে হাওরের বিভিন্ন ক্লোজার (বিপদজনক ভাংগা) মেরামত করতে হয় অন্তত ৩ মাস আগে।
কাবিটা নীতিমালা অনুযায়ী ৩০ নভেম্বর পিআইসি গঠন ও ১৫ডিসেম্বর কাজ শুরু করে ২৮ ফেব্রুয়ারীর মধ্যে কাজ শেষ করার নিয়ম রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের ধর্মপাশা উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম বলেন তার উপজেলায় পিআইসির পুর্নাঙ্গ তালিকা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে বিভিন্ন বাঁধে কাজ শুরুর দাবি করেন তিনি।
মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উজ্জ্বল রায় বলেন তার উপজেলায় দুটি বাঁধে কাজ শুরু হয়েছে। একটি হচ্ছে দক্ষিন বংশীকুন্ডা ইউনিয়নে অপরটি চামারদানি ইউনিয়নের ৩৩নং পিআইসি। তালিকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন উপজেলার ৩৪টি পিআইসি গঠনের কাজ শেষ দিকে দুএকদিনের মধ্যে পুর্নাঙ্গ তালিকা টানিয়ে দেয়া হবে।
জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুশফিকীন নুর জানান পিআইসি তালিকা প্রস্তুত আছে তবে সব জায়গায় এখনো কাজ শুরু করা যায়নি।
জেলা কাবিটা কমিটির সদস্য গনমাধ্যম কর্মী জসিম উদ্দিন জানান, অনিয়মের জন্য শাল্লায় কাজ স্থগিত ছিল, আমরা ক’জন গিয়ে সেটা সমাধান করে দিয়েছি। পরবর্তীতে আর কোন সমন্নয় করা হয়নি।
জেলা কাবিটা কমিটির আরেক সদস্য পরিবেশ কর্মী সালেহীন চৌধুরী শুভ বলেন বাঁধের বিষয়ে তাদেরকে অন্ধকারে রাখা হচ্ছে। কোথাও কাজ শুরু হয়নি। দিরাই উপজেলার গনমাধ্যমে কর্মী আনোয়ার হোসাইন জানান, দিরাই-শাল্লায় বাঁধের কোন কাজ শুরু হয়নি, যে বাঁধটি উদ্বোধন করা হয়েছে কেবল সেটিরই পিআইসি গঠন করা হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হালদার বলেন স্থানীয় সমস্যার কারনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগন পিআইসি তালিকা চুড়ান্ত করতে পারছেন না। এ কারণে কাজে বিলম্ব হচ্ছে। দুয়েকদিনের মধ্যে চুড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে বলে জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, সুনামগঞ্জের ৫৩ হাওরে ২ লাখ ২৩ হাজার ৪১০ হেক্টর আবাদযোগ্য জমির বোরো ফসল রক্ষার জন্য ৫৮৮ কি:মি: বাঁধ নির্মানে ৬৭৫টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। ১২৫ কোটি ১৯ লাখ ৪২ হাজার টাকা ব্যয়ে জেলার বড় হাওরগুলোর ফসল অকাল বন্যার কবল থেকে রক্ষা করতে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ২৮টি প্রকল্পের জন্য ৪ কোটি ৬৫ লাখ ৫৪ হাজার টাকা, তাহিরপুর উপজেলায় ৭৬টি প্রকল্পের জন্য ১২ কোটি ৫২ লাখ টাকা, জামালগঞ্জ উপজেলায় ৪০টি প্রকল্পের জন্য ৭ কোটি ১৬ লাখ টাকা, বিশ্বম্ভপুর উপজেলায় ২৫ টি প্রকল্পের জন্য ৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকা, ধর্মপাশা উপজেলায় ৮৬টি প্রকল্পের জন্য ১৯ কোটি ১৫ লাখ ২ হাজার টাকা, শান্তিগঞ্জ উপজেলায় ৬৩ টি প্রকল্পের জন্য ৯ কোটি ৮৬ লাখ ৩ হাজার টাকা, জগন্নাথপুর উপজেলায় ৩৯ টি প্রকল্পের জন্য ৬ কোটি ৮৯ লাখ ৬৯ হাজার টাকা, শাল্লা উপজেলায় ১১৫টি প্রকল্পের জন্য ১৭ কোটি ৮১ লাখ টাকা, ছাতক উপজেলায় ২৮টি প্রকল্পের জন্য ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা, মধ্যনগর উপজেলায় ৩৪ টি প্রকল্পের জন্য ৭ কোটি ২৮ লাখ ৩ হাজার টাকা, দোয়ারাবাজার উপজেলায় ৪৭ টি প্রকল্পের জন্য ৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকা, দিরাই উপজেলায় ৯৪ টি প্রকল্পের জন্য ২৪ কোটি ৮২ লাখ ৩৭ হাজার টাকা বরাদ্ধ অনুমোদন করা হয়। ২০১৭ সালের মার্চ মাসের শেষ ও এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে হাওরে বাঁধ নির্মানে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারনে আগাম বন্যায় সুনামগঞ্জের সবকটি হাওরের ফসল পানিতে তলিয়ে যায়। এর পর থেকে ঠিকাদারী প্রথা বিলুপ্ত করে ওই বছরই কাবিটা নীতিমালা ২০১৭ প্রনয়ন করা হয়। ২০১৮ সাল থেকে পিআইসির মাধ্যমে কাজ শুরু হয়।