ঢাকা , শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
Logo ভোটারদের দোয়া ও সমর্থন চেয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় আব্দুল আজিজ Logo মহি উদ্দিন মহিমের অর্থায়নে বুড়ুমপুরে নতুন জামে মসজিদের উদ্বোধন Logo শান্তিগঞ্জে কৃষি ও প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন কৃষকদের জন্য স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার আশ্বাস Logo বিরোধের জেরে প্রশাসনের হেফাজতে শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাব ভবন Logo শান্তিগঞ্জে উচ্চ ফলনশীল আমন ধান চাষে কৃষকদের দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শুরু Logo শান্তিগঞ্জের পাথারিয়া বাজারে যাত্রা শুরু করল আয়ূব আলী মাংসের দোকান Logo পাথারিয়া ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে নগদ অর্থ ও চাল বিতরণ Logo শান্তিগঞ্জের পাথারিয়ায় কৃষকদের নিয়ে উচ্চ ফলনশীল আমন ধান চাষ বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত Logo যুবলীগ নেতা সুহেলের নেতৃত্বে নির্মাণাধীন শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাব ভবনে একক দখলচেষ্টার প্রতিবাদে অপরাংশের তালা Logo দিরাইয়ের ভাটিপাড়ায় সদস্য পদে প্রার্থী হতে চান স্বপন দাস

ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের ইন্তেকাল

  • ডেক্স রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৫:৫৪:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ মে ২০২৫
  • ৬৩২ বার পড়া হয়েছে

ছবি সংগৃহীত

বাংলাদেশের আইনি অঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। দীর্ঘদিন ক্যানসারে ভুগে ২০২৫ সালের রোববার (৪ মে) বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে ঢাকার ধানমন্ডির ইবনে সিনা হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮১ বছর।
বিশিষ্ট আইনজীবী শিশির মনির তাঁর মৃত্যু সংবাদ নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে, ব্যারিস্টার রাজ্জাক দীর্ঘদিন ধরেই প্রোস্টেট ক্যানসারে ভুগছিলেন এবং সম্প্রতি অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মৃত্যুর আগপর্যন্ত তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।
১৯৪৪ সালে সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার উপজেলার মাথিউরা ইউনিয়নের শেখলাল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বিএ (অনার্স) ও এমএ ডিগ্রির পর উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান এবং ১৯৮০ সালে লিংকনস ইন থেকে বার-অ্যাট-ল ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত লন্ডনে আইন পেশায় নিয়োজিত থাকার পর তিনি দেশে ফিরে ১৯৮৬ সালে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।
আইনি পেশায় তাঁর পথচলা ছিল দীর্ঘ ও মর্যাদাপূর্ণ। ১৯৮৮ সালে তিনি হাইকোর্ট বিভাগে এবং ১৯৯৪ সালে আপিল বিভাগে আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। ২০০২ সালে তিনি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সিনিয়র আইনজীবীর মর্যাদা লাভ করেন। তিনি “দ্য ল’ কাউন্সেল” নামক একটি স্বনামধন্য আইনি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন ১৯৯০ সালে, যা আজও আইনজীবীদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত।
ব্যারিস্টার রাজ্জাকের রাজনৈতিক জীবনও ছিল আলোচিত। তিনি জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াত নেতাদের পক্ষে প্রধান আইনজীবী হিসেবে কাজ করেন। তবে ২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর দেশ ত্যাগ করে যুক্তরাজ্যে চলে যান এবং সেখান থেকেই ২০১৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি জামায়াত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেন।
জামায়াত ছাড়ার পর তিনি নতুন রাজনৈতিক দল “আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি”-তে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দেন। কিন্তু ২০২৪ সালের আগস্টে তিনি সেখান থেকেও পদত্যাগ করেন। রাজনীতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, “আমি একজন কোর্টরুম ব্যারিস্টার। আইন ও আইনের শাসনের মাধ্যমেই দেশ ও জাতির খেদমত করতে চাই।”
২০২৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর, দীর্ঘ ১১ বছর যুক্তরাজ্যে অবস্থানের পর তিনি দেশে ফিরে আবারো সুপ্রিম কোর্টে আইন পেশায় সক্রিয় হন। ২০২৫ সালের ৬ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনে তাঁর সম্মানে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক শুধু একজন আইনজীবীই ছিলেন না, তিনি ছিলেন এক নির্ভীক চিন্তাবিদ ও নীতিনিষ্ঠ পেশাজীবী, যিনি আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের পক্ষে অটল ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি রেখে গেছেন দুই ছেলে ও এক মেয়ে। তাঁর দুই ছেলে—ব্যারিস্টার এহসান আবদুল্লাহ সিদ্দিকী এবং ব্যারিস্টার ইমরান আবদুল্লাহ সিদ্দিকী—সুপ্রিম কোর্টে পিতার পথ অনুসরণ করে আইন পেশায় যুক্ত রয়েছেন।
ব্যারিস্টার রাজ্জাকের জানাজা আজ রোববার রাতে ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে এবং ৫ মে সকাল ১১টায় সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে।

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

Janasarthe 24

আপনাদের আশে পাশে ঘটে যাওয়া প্রতি মুহুর্তের খবর দিয়ে আমাদের সহযোগীতা করুন। আমরা আমাদের অনলাইনে তা প্রকাশ করে কৃতজ্ঞ হবো। আমাদের প্রতি মুহুর্তের খবর জানতে আমাদের সাথে থাকুন
জনপ্রিয় সংবাদ

ভোটারদের দোয়া ও সমর্থন চেয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় আব্দুল আজিজ

ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের ইন্তেকাল

আপডেট সময় ০৫:৫৪:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ মে ২০২৫

ছবি সংগৃহীত

বাংলাদেশের আইনি অঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। দীর্ঘদিন ক্যানসারে ভুগে ২০২৫ সালের রোববার (৪ মে) বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে ঢাকার ধানমন্ডির ইবনে সিনা হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮১ বছর।
বিশিষ্ট আইনজীবী শিশির মনির তাঁর মৃত্যু সংবাদ নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে, ব্যারিস্টার রাজ্জাক দীর্ঘদিন ধরেই প্রোস্টেট ক্যানসারে ভুগছিলেন এবং সম্প্রতি অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মৃত্যুর আগপর্যন্ত তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।
১৯৪৪ সালে সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার উপজেলার মাথিউরা ইউনিয়নের শেখলাল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বিএ (অনার্স) ও এমএ ডিগ্রির পর উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান এবং ১৯৮০ সালে লিংকনস ইন থেকে বার-অ্যাট-ল ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত লন্ডনে আইন পেশায় নিয়োজিত থাকার পর তিনি দেশে ফিরে ১৯৮৬ সালে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।
আইনি পেশায় তাঁর পথচলা ছিল দীর্ঘ ও মর্যাদাপূর্ণ। ১৯৮৮ সালে তিনি হাইকোর্ট বিভাগে এবং ১৯৯৪ সালে আপিল বিভাগে আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। ২০০২ সালে তিনি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সিনিয়র আইনজীবীর মর্যাদা লাভ করেন। তিনি “দ্য ল’ কাউন্সেল” নামক একটি স্বনামধন্য আইনি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন ১৯৯০ সালে, যা আজও আইনজীবীদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত।
ব্যারিস্টার রাজ্জাকের রাজনৈতিক জীবনও ছিল আলোচিত। তিনি জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াত নেতাদের পক্ষে প্রধান আইনজীবী হিসেবে কাজ করেন। তবে ২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর দেশ ত্যাগ করে যুক্তরাজ্যে চলে যান এবং সেখান থেকেই ২০১৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি জামায়াত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেন।
জামায়াত ছাড়ার পর তিনি নতুন রাজনৈতিক দল “আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি”-তে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দেন। কিন্তু ২০২৪ সালের আগস্টে তিনি সেখান থেকেও পদত্যাগ করেন। রাজনীতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, “আমি একজন কোর্টরুম ব্যারিস্টার। আইন ও আইনের শাসনের মাধ্যমেই দেশ ও জাতির খেদমত করতে চাই।”
২০২৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর, দীর্ঘ ১১ বছর যুক্তরাজ্যে অবস্থানের পর তিনি দেশে ফিরে আবারো সুপ্রিম কোর্টে আইন পেশায় সক্রিয় হন। ২০২৫ সালের ৬ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনে তাঁর সম্মানে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক শুধু একজন আইনজীবীই ছিলেন না, তিনি ছিলেন এক নির্ভীক চিন্তাবিদ ও নীতিনিষ্ঠ পেশাজীবী, যিনি আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের পক্ষে অটল ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি রেখে গেছেন দুই ছেলে ও এক মেয়ে। তাঁর দুই ছেলে—ব্যারিস্টার এহসান আবদুল্লাহ সিদ্দিকী এবং ব্যারিস্টার ইমরান আবদুল্লাহ সিদ্দিকী—সুপ্রিম কোর্টে পিতার পথ অনুসরণ করে আইন পেশায় যুক্ত রয়েছেন।
ব্যারিস্টার রাজ্জাকের জানাজা আজ রোববার রাতে ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে এবং ৫ মে সকাল ১১টায় সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে।