ঢাকা , সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
Logo ভোটারদের দোয়া ও সমর্থন চেয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় আব্দুল আজিজ Logo মহি উদ্দিন মহিমের অর্থায়নে বুড়ুমপুরে নতুন জামে মসজিদের উদ্বোধন Logo শান্তিগঞ্জে কৃষি ও প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন কৃষকদের জন্য স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার আশ্বাস Logo বিরোধের জেরে প্রশাসনের হেফাজতে শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাব ভবন Logo শান্তিগঞ্জে উচ্চ ফলনশীল আমন ধান চাষে কৃষকদের দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শুরু Logo শান্তিগঞ্জের পাথারিয়া বাজারে যাত্রা শুরু করল আয়ূব আলী মাংসের দোকান Logo পাথারিয়া ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে নগদ অর্থ ও চাল বিতরণ Logo শান্তিগঞ্জের পাথারিয়ায় কৃষকদের নিয়ে উচ্চ ফলনশীল আমন ধান চাষ বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত Logo যুবলীগ নেতা সুহেলের নেতৃত্বে নির্মাণাধীন শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাব ভবনে একক দখলচেষ্টার প্রতিবাদে অপরাংশের তালা Logo দিরাইয়ের ভাটিপাড়ায় সদস্য পদে প্রার্থী হতে চান স্বপন দাস

বাংলাদেশে জনস্বাস্থ্য আন্দোলনের পুরোধা ‘গরীবের ডাক্তার’ জাফরুল্লাহ চৌধুরীর প্রয়াণ

বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য আন্দোলনের একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা, মুক্তিযোদ্ধা এবং গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী মারা গেছেন।

মঙ্গলবার রাত সোয়া এগারোটায় ঢাকার গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে তিনি শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন।

তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনি সমস্যায় ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর।গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রধান কিডনিরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মামুন মুস্তাফি মঙ্গলবার রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ডা. জাফরুল্লাহ’র মৃত্যু সংবাদ ঘোষণা করেন।বাংলাদেশে ১৯৮২ সালে চালু হওয়া ‘জাতীয় ঔষধ নীতি’ প্রণয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।গত ক’বছর ধরে তিনি পরোক্ষ রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও সম্প্রতি কিছুটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন।২০১২ সালে বিবিসি বাংলার সাথে কথা বলেছিলেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। এখানে শুনুন সেই সাক্ষাৎকার’বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবার বিকল্প মডেল দাঁড় করিয়েছেন’বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকে একুশ শতকের করোনা ভাইরাস মহামারি এই – পুরো পাঁচ দশকেই কোনো না কোনো ভাবে আলোচনায় এসেছেন ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বাংলাদেশে অনেকেই যাকে সম্বোধন করেন গরীবের ডাক্তার হিসেবে।তার স্কুল জীবনের সহপাঠী ও পরবর্তীকালে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালের পরিচালনা পর্ষদের প্রধান ডা: মাহমুদুর রহমান বলছেন, চিন্তায় সৎ থেকে দেশের জন্য যেটা ভালো মনে হতো সেটাই সবসময় করে গেছেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী।উনিশশো একচল্লিশ সালের ২৭শে ডিসেম্বর চট্টগ্রামের রাউজানে জন্মগ্রহণ করা জাফরুল্লাহ চৌধুরী ছিলেন পরিবারে দশ ভাই-বোনের মধ্যে সবার বড়। ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী থাকার সময়ে কলেজের দুর্নীতি নিয়ে সোচ্চার হয়ে আলোচনায় এসে পরে কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।মি. রহমান বলছেন, তখন থেকেই স্বাস্থ্যখাতের জন্য ভালো কিছু করার জন্য তিনি ছিলেন সবসময় একরোখা, কিন্তু নিজ আদর্শে অটল।”ডাক্তারি পাশের পর আমরা দুজনই যুক্তরাজ্যে যাই। সেখানে থাকা অবস্থায় সার্জারিতে কাজ করে সার্জন হিসেবে সে সুনাম অর্জন করে। ৬৯ সালের ওই সময়ে আমরা সবাই দেশ নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ি। সে সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেয়। ইংল্যান্ডে বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন গড়ে তোলে এবং তার নেতৃত্ব ছিলো বলিষ্ঠ।”যুদ্ধকালীন সময়ে গড়ে তোলেন বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতাল। স্বাধীনতার পর বিলাতে না গিয়ে দেশেই সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করতে শুরু করলেন। গণস্বাস্থ্য -ধীরে ধীরে সারা বিশ্বের স্বীকৃতি পায়।”ইংল্যান্ডে থাকার সময় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে প্রকাশ্যে পাকিস্তানী পাসপোর্ট ছিঁড়ে ফেলে বিশেষ অনুমোদন নিয়ে ভারতে গিয়েছিলেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী। ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল আতাউল গণি ওসমানীকে বহনকারী যে হেলিকপ্টার হামলার শিকার হয়েছিলো তাতে মি. চৌধুরীও ছিলেন একজন আরোহী।মুক্তিযুদ্ধের সময়ে আগরতলার মেলাঘরে তার গড়ে তোলা বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতালের ধারাবাহিকতাতেই স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের সহযোগিতায় সাভারে গড়ে তোলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।সখ্যতা ছিলো দুই সামরিক শাসক জেনারেল জিয়াউর রহমান ও জেনারেল এইচ এম এরশাদের সাথেও, যা নিয়ে তিনি আলোচিত-সমালোচিতও হয়েছিলেন।এমনকি ঔষধ নীতি নিয়ে বিরোধের জের ধরে তাকে বহিষ্কারও করা হয়েছিলো বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন বা বিএমএ থেকে।ডা: মাহমুদুর রহমান বলছেন, “তার ঔষধ নীতি বাংলাদেশের ঔষধ খাতে বিরাট পরিবর্তন নিয়ে আসে। বিশেষ করে এর জন্যই আজকের বাংলাদেশে ঔষধ খাতের এতো উদ্যোক্তা।”মঙ্গলবার রাত সোয়া এগারোটায় ঢাকার গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে তিনি শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন।তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনি সমস্যায় ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর।গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রধান কিডনিরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মামুন মুস্তাফি মঙ্গলবার রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ডা. জাফরুল্লাহ’র মৃত্যু সংবাদ ঘোষণা করেন।বাংলাদেশে ১৯৮২ সালে চালু হওয়া ‘জাতীয় ঔষধ নীতি’ প্রণয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।গত ক’বছর ধরে তিনি পরোক্ষ রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও সম্প্রতি কিছুটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন।’বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবার বিকল্প মডেল দাঁড় করিয়েছেন’বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকে একুশ শতকের করোনা ভাইরাস মহামারি এই – পুরো পাঁচ দশকেই কোনো না কোনো ভাবে আলোচনায় এসেছেন ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বাংলাদেশে অনেকেই যাকে সম্বোধন করেন গরীবের ডাক্তার হিসেবে।তার স্কুল জীবনের সহপাঠী ও পরবর্তীকালে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালের পরিচালনা পর্ষদের প্রধান ডা: মাহমুদুর রহমান বলছেন, চিন্তায় সৎ থেকে দেশের জন্য যেটা ভালো মনে হতো সেটাই সবসময় করে গেছেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী।উনিশশো একচল্লিশ সালের ২৭শে ডিসেম্বর চট্টগ্রামের রাউজানে জন্মগ্রহণ করা জাফরুল্লাহ চৌধুরী ছিলেন পরিবারে দশ ভাই-বোনের মধ্যে সবার বড়। ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী থাকার সময়ে কলেজের দুর্নীতি নিয়ে সোচ্চার হয়ে আলোচনায় এসে পরে কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।মি. রহমান বলছেন, তখন থেকেই স্বাস্থ্যখাতের জন্য ভালো কিছু করার জন্য তিনি ছিলেন সবসময় একরোখা, কিন্তু নিজ আদর্শে অটল।”ডাক্তারি পাশের পর আমরা দুজনই যুক্তরাজ্যে যাই। সেখানে থাকা অবস্থায় সার্জারিতে কাজ করে সার্জন হিসেবে সে সুনাম অর্জন করে। ৬৯ সালের ওই সময়ে আমরা সবাই দেশ নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ি। সে সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেয়। ইংল্যান্ডে বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন গড়ে তোলে এবং তার নেতৃত্ব ছিলো বলিষ্ঠ।”যুদ্ধকালীন সময়ে গড়ে তোলেন বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতাল। স্বাধীনতার পর বিলাতে না গিয়ে দেশেই সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করতে শুরু করলেন। গণস্বাস্থ্য -ধীরে ধীরে সারা বিশ্বের স্বীকৃতি পায়।”ইংল্যান্ডে থাকার সময় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে প্রকাশ্যে পাকিস্তানী পাসপোর্ট ছিঁড়ে ফেলে বিশেষ অনুমোদন নিয়ে ভারতে গিয়েছিলেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী। ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল আতাউল গণি ওসমানীকে বহনকারী যে হেলিকপ্টার হামলার শিকার হয়েছিলো তাতে মি. চৌধুরীও ছিলেন একজন আরোহী।মুক্তিযুদ্ধের সময়ে আগরতলার মেলাঘরে তার গড়ে তোলা বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতালের ধারাবাহিকতাতেই স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের সহযোগিতায় সাভারে গড়ে তোলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।সখ্যতা ছিলো দুই সামরিক শাসক জেনারেল জিয়াউর রহমান ও জেনারেল এইচ এম এরশাদের সাথেও, যা নিয়ে তিনি আলোচিত-সমালোচিতও হয়েছিলেন।এমনকি ঔষধ নীতি নিয়ে বিরোধের জের ধরে তাকে বহিষ্কারও করা হয়েছিলো বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন বা বিএমএ থেকে।

ডা: মাহমুদুর রহমান বলছেন, “তার ঔষধ নীতি বাংলাদেশের ঔষধ খাতে বিরাট পরিবর্তন নিয়ে আসে। বিশেষ করে এর জন্যই আজকের বাংলাদেশে ঔষধ খাতের এতো উদ্যোক্তা।”

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

Janasarthe 24

আপনাদের আশে পাশে ঘটে যাওয়া প্রতি মুহুর্তের খবর দিয়ে আমাদের সহযোগীতা করুন। আমরা আমাদের অনলাইনে তা প্রকাশ করে কৃতজ্ঞ হবো। আমাদের প্রতি মুহুর্তের খবর জানতে আমাদের সাথে থাকুন
জনপ্রিয় সংবাদ

ভোটারদের দোয়া ও সমর্থন চেয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় আব্দুল আজিজ

বাংলাদেশে জনস্বাস্থ্য আন্দোলনের পুরোধা ‘গরীবের ডাক্তার’ জাফরুল্লাহ চৌধুরীর প্রয়াণ

আপডেট সময় ১২:৪৩:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ এপ্রিল ২০২৩

বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য আন্দোলনের একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা, মুক্তিযোদ্ধা এবং গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী মারা গেছেন।

মঙ্গলবার রাত সোয়া এগারোটায় ঢাকার গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে তিনি শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন।

তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনি সমস্যায় ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর।গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রধান কিডনিরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মামুন মুস্তাফি মঙ্গলবার রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ডা. জাফরুল্লাহ’র মৃত্যু সংবাদ ঘোষণা করেন।বাংলাদেশে ১৯৮২ সালে চালু হওয়া ‘জাতীয় ঔষধ নীতি’ প্রণয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।গত ক’বছর ধরে তিনি পরোক্ষ রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও সম্প্রতি কিছুটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন।২০১২ সালে বিবিসি বাংলার সাথে কথা বলেছিলেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। এখানে শুনুন সেই সাক্ষাৎকার’বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবার বিকল্প মডেল দাঁড় করিয়েছেন’বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকে একুশ শতকের করোনা ভাইরাস মহামারি এই – পুরো পাঁচ দশকেই কোনো না কোনো ভাবে আলোচনায় এসেছেন ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বাংলাদেশে অনেকেই যাকে সম্বোধন করেন গরীবের ডাক্তার হিসেবে।তার স্কুল জীবনের সহপাঠী ও পরবর্তীকালে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালের পরিচালনা পর্ষদের প্রধান ডা: মাহমুদুর রহমান বলছেন, চিন্তায় সৎ থেকে দেশের জন্য যেটা ভালো মনে হতো সেটাই সবসময় করে গেছেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী।উনিশশো একচল্লিশ সালের ২৭শে ডিসেম্বর চট্টগ্রামের রাউজানে জন্মগ্রহণ করা জাফরুল্লাহ চৌধুরী ছিলেন পরিবারে দশ ভাই-বোনের মধ্যে সবার বড়। ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী থাকার সময়ে কলেজের দুর্নীতি নিয়ে সোচ্চার হয়ে আলোচনায় এসে পরে কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।মি. রহমান বলছেন, তখন থেকেই স্বাস্থ্যখাতের জন্য ভালো কিছু করার জন্য তিনি ছিলেন সবসময় একরোখা, কিন্তু নিজ আদর্শে অটল।”ডাক্তারি পাশের পর আমরা দুজনই যুক্তরাজ্যে যাই। সেখানে থাকা অবস্থায় সার্জারিতে কাজ করে সার্জন হিসেবে সে সুনাম অর্জন করে। ৬৯ সালের ওই সময়ে আমরা সবাই দেশ নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ি। সে সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেয়। ইংল্যান্ডে বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন গড়ে তোলে এবং তার নেতৃত্ব ছিলো বলিষ্ঠ।”যুদ্ধকালীন সময়ে গড়ে তোলেন বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতাল। স্বাধীনতার পর বিলাতে না গিয়ে দেশেই সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করতে শুরু করলেন। গণস্বাস্থ্য -ধীরে ধীরে সারা বিশ্বের স্বীকৃতি পায়।”ইংল্যান্ডে থাকার সময় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে প্রকাশ্যে পাকিস্তানী পাসপোর্ট ছিঁড়ে ফেলে বিশেষ অনুমোদন নিয়ে ভারতে গিয়েছিলেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী। ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল আতাউল গণি ওসমানীকে বহনকারী যে হেলিকপ্টার হামলার শিকার হয়েছিলো তাতে মি. চৌধুরীও ছিলেন একজন আরোহী।মুক্তিযুদ্ধের সময়ে আগরতলার মেলাঘরে তার গড়ে তোলা বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতালের ধারাবাহিকতাতেই স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের সহযোগিতায় সাভারে গড়ে তোলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।সখ্যতা ছিলো দুই সামরিক শাসক জেনারেল জিয়াউর রহমান ও জেনারেল এইচ এম এরশাদের সাথেও, যা নিয়ে তিনি আলোচিত-সমালোচিতও হয়েছিলেন।এমনকি ঔষধ নীতি নিয়ে বিরোধের জের ধরে তাকে বহিষ্কারও করা হয়েছিলো বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন বা বিএমএ থেকে।ডা: মাহমুদুর রহমান বলছেন, “তার ঔষধ নীতি বাংলাদেশের ঔষধ খাতে বিরাট পরিবর্তন নিয়ে আসে। বিশেষ করে এর জন্যই আজকের বাংলাদেশে ঔষধ খাতের এতো উদ্যোক্তা।”মঙ্গলবার রাত সোয়া এগারোটায় ঢাকার গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে তিনি শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন।তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনি সমস্যায় ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর।গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রধান কিডনিরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মামুন মুস্তাফি মঙ্গলবার রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ডা. জাফরুল্লাহ’র মৃত্যু সংবাদ ঘোষণা করেন।বাংলাদেশে ১৯৮২ সালে চালু হওয়া ‘জাতীয় ঔষধ নীতি’ প্রণয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।গত ক’বছর ধরে তিনি পরোক্ষ রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও সম্প্রতি কিছুটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন।’বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবার বিকল্প মডেল দাঁড় করিয়েছেন’বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকে একুশ শতকের করোনা ভাইরাস মহামারি এই – পুরো পাঁচ দশকেই কোনো না কোনো ভাবে আলোচনায় এসেছেন ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বাংলাদেশে অনেকেই যাকে সম্বোধন করেন গরীবের ডাক্তার হিসেবে।তার স্কুল জীবনের সহপাঠী ও পরবর্তীকালে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালের পরিচালনা পর্ষদের প্রধান ডা: মাহমুদুর রহমান বলছেন, চিন্তায় সৎ থেকে দেশের জন্য যেটা ভালো মনে হতো সেটাই সবসময় করে গেছেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী।উনিশশো একচল্লিশ সালের ২৭শে ডিসেম্বর চট্টগ্রামের রাউজানে জন্মগ্রহণ করা জাফরুল্লাহ চৌধুরী ছিলেন পরিবারে দশ ভাই-বোনের মধ্যে সবার বড়। ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী থাকার সময়ে কলেজের দুর্নীতি নিয়ে সোচ্চার হয়ে আলোচনায় এসে পরে কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।মি. রহমান বলছেন, তখন থেকেই স্বাস্থ্যখাতের জন্য ভালো কিছু করার জন্য তিনি ছিলেন সবসময় একরোখা, কিন্তু নিজ আদর্শে অটল।”ডাক্তারি পাশের পর আমরা দুজনই যুক্তরাজ্যে যাই। সেখানে থাকা অবস্থায় সার্জারিতে কাজ করে সার্জন হিসেবে সে সুনাম অর্জন করে। ৬৯ সালের ওই সময়ে আমরা সবাই দেশ নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ি। সে সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেয়। ইংল্যান্ডে বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন গড়ে তোলে এবং তার নেতৃত্ব ছিলো বলিষ্ঠ।”যুদ্ধকালীন সময়ে গড়ে তোলেন বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতাল। স্বাধীনতার পর বিলাতে না গিয়ে দেশেই সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করতে শুরু করলেন। গণস্বাস্থ্য -ধীরে ধীরে সারা বিশ্বের স্বীকৃতি পায়।”ইংল্যান্ডে থাকার সময় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে প্রকাশ্যে পাকিস্তানী পাসপোর্ট ছিঁড়ে ফেলে বিশেষ অনুমোদন নিয়ে ভারতে গিয়েছিলেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী। ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল আতাউল গণি ওসমানীকে বহনকারী যে হেলিকপ্টার হামলার শিকার হয়েছিলো তাতে মি. চৌধুরীও ছিলেন একজন আরোহী।মুক্তিযুদ্ধের সময়ে আগরতলার মেলাঘরে তার গড়ে তোলা বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতালের ধারাবাহিকতাতেই স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের সহযোগিতায় সাভারে গড়ে তোলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।সখ্যতা ছিলো দুই সামরিক শাসক জেনারেল জিয়াউর রহমান ও জেনারেল এইচ এম এরশাদের সাথেও, যা নিয়ে তিনি আলোচিত-সমালোচিতও হয়েছিলেন।এমনকি ঔষধ নীতি নিয়ে বিরোধের জের ধরে তাকে বহিষ্কারও করা হয়েছিলো বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন বা বিএমএ থেকে।

ডা: মাহমুদুর রহমান বলছেন, “তার ঔষধ নীতি বাংলাদেশের ঔষধ খাতে বিরাট পরিবর্তন নিয়ে আসে। বিশেষ করে এর জন্যই আজকের বাংলাদেশে ঔষধ খাতের এতো উদ্যোক্তা।”