ঢাকা , রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
Logo ভোটারদের দোয়া ও সমর্থন চেয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় আব্দুল আজিজ Logo মহি উদ্দিন মহিমের অর্থায়নে বুড়ুমপুরে নতুন জামে মসজিদের উদ্বোধন Logo শান্তিগঞ্জে কৃষি ও প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন কৃষকদের জন্য স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার আশ্বাস Logo বিরোধের জেরে প্রশাসনের হেফাজতে শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাব ভবন Logo শান্তিগঞ্জে উচ্চ ফলনশীল আমন ধান চাষে কৃষকদের দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শুরু Logo শান্তিগঞ্জের পাথারিয়া বাজারে যাত্রা শুরু করল আয়ূব আলী মাংসের দোকান Logo পাথারিয়া ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে নগদ অর্থ ও চাল বিতরণ Logo শান্তিগঞ্জের পাথারিয়ায় কৃষকদের নিয়ে উচ্চ ফলনশীল আমন ধান চাষ বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত Logo যুবলীগ নেতা সুহেলের নেতৃত্বে নির্মাণাধীন শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাব ভবনে একক দখলচেষ্টার প্রতিবাদে অপরাংশের তালা Logo দিরাইয়ের ভাটিপাড়ায় সদস্য পদে প্রার্থী হতে চান স্বপন দাস

বিভিন্ন জায়গায় কাছামরিছের দাম কমেছে

বেশ কয়েকদিন ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর বগুড়ায় কাঁচামরিচের দাম কমতে শুরু করেছে। কেজিতে ৩০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে মরিচের দাম। একদিন আগেও ৬০০ টাকায় বিক্রি হওয়া কাঁচামরিচ রোববার (২ জুলাই) বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা কেজি।

সবগুলো বন্দর দিয়ে কাঁচামরিচ আমদানি শুরু হলে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম কমবে বলে দাবি আমদানিকারকদের। এছাড়া দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে মানুষ কাঁচামরিচ কম কিনছেন বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

শহরের রাজাবাজার ও ফতেহআলী বাজার ঘুরে দেখা যায়, রোববার সকালে প্রতিকেজি কাঁচামরিচ খুচরা বাজারে বিক্রি হয়েছে ৩৬০ থেকে ৪০০ টাকায়। বেলা ১১টার পর মহাস্থান হাট থেকে মরিচ আসার পর দাম কমে ৩০০ টাকা কেজি বিক্রি শুরু হয়। মহাস্থান হাট থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে কিনে পাইকারি ব্যবসায়ীরা বগুড়া শহরে আড়তদারদের কাছে ২৮০ টাকায় বিক্রি করেন। হাতঘুরে সেই মরিচ খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা কেজি দরে।

কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, জেলায় এবার রবি মৌসুমে মরিচের আবাদ হয়েছিল ৯৫০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন হয়েছিল প্রতি হেক্টরে ১৪ মণ। গতবছর মরিচের আবাদ হয়েছিল এক হাজার ২৩৪ হেক্টর জমিতে। গতবছরের চেয়ে চলতি বছর রবি মৌসুমে মরিচের আবাদ কম হয়েছে। কম হওয়ার কারণ দেরিতে বন্যা হওয়া। বন্যা সাধারণত জুলাই মাসে হয়। কিন্তু গতবছর বন্যা হয়েছিল আগস্টে।

 

রবি মৌসুমে মরিচের বীজ বপন করা হয় বন্যার পরপরই আগষ্ট-সেপ্টেম্বরে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে আগস্ট মাসে বন্যার কারণে রবি মৌসুমে মরিচের বীজ বপন করা হয়েছিল অক্টোবর-নভেম্বরে। দেরিতে আবাদ করতে গিয়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়নি।

বর্তমানে খরিপ-১ মৌসুম চলছে। খরিপ-১ মৌসুমে এপ্রিল মাসে মরিচের বীজ বপন করা হয়। গতবছর খরিপ-১ মৌসুমে মরিচের আবাদ হয়েছিল ৮৫০ হেক্টর জমিতে। এবার খরিপ-১ মৌসুমে মরিচের বীজ বপন করা হয়েছিল ৬৫০ হেক্টর জমিতে। একেতো আবাদ কম হয়েছে; তার ওপর এবার মাত্রাতিরিক্ত খরার কারণে বীজের চারা গজায়নি। যে কারণে খরিপ-১ মৌসুমে মরিচের আবাদ কম হয়েছে। ফলে এবার বগুড়াতেই মরিচের চরম সংকট চলছে।

আব্দুল মোমেন নামের রাজাবাজের একজন বিক্রেতা বলেন, ‘বাজারে এখন প্রতিকেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকায়। কেজিতে কমেছে ৩০০ টাকা। ভারতের মরিচ এলে দাম আরও কমবে। মূলত বর্ষার কারণে মরিচের সরবরাহ কম। এতে দাম বেড়েছিল।’

কাঁচামরিচ কিনতে আসা গৃৃহবধূ ফাতেমা জান্নাত বলেন, “কাঁচামরিচ এখন ‘গলার কাঁটা’ হয়ে গেছে। এই দামে কাঁচামরিচ কিনতে গেলে সংসারের বাকি জিনিসপাতি কিনবো কীভাবে? দাম কমেছে, তাই বলে ৩০০ টাকা কেজিতে কাঁচা মরিচ কিনতে হবে? পেঁয়াজ কিনতে গেলে মরিচ কেনা যায় না, মরিচ কিনতে গেলে পেঁয়াজ কেনা যায় না।”

রাজাবাজার আড়তদার ও ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক পরিমল প্রসাদ রাজ জানান, ঈদের জন্য ছয় দিন হিলি বন্দর, বুড়িমারী স্থল বন্দরসহ বিভিন্ন বন্দর বন্ধ ছিল। যে কারণে এলসি করা মরিচের ট্রাক দেশে প্রবেশ করতে পারেনি। সোমবার (৩ জুলাই) থেকে এলসির মরিচের ট্রাক প্রবেশ করবে। ট্রাক প্রবেশ করা মাত্রই মরিচের দাম কমে যাবে। তিনি আরও বলেন, সার্বক্ষণিক বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। অতিরিক্তি দাম আদায়ের সুযোগ নেই।

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

Janasarthe 24

আপনাদের আশে পাশে ঘটে যাওয়া প্রতি মুহুর্তের খবর দিয়ে আমাদের সহযোগীতা করুন। আমরা আমাদের অনলাইনে তা প্রকাশ করে কৃতজ্ঞ হবো। আমাদের প্রতি মুহুর্তের খবর জানতে আমাদের সাথে থাকুন
জনপ্রিয় সংবাদ

ভোটারদের দোয়া ও সমর্থন চেয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় আব্দুল আজিজ

বিভিন্ন জায়গায় কাছামরিছের দাম কমেছে

আপডেট সময় ০৭:২২:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ জুলাই ২০২৩

বেশ কয়েকদিন ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর বগুড়ায় কাঁচামরিচের দাম কমতে শুরু করেছে। কেজিতে ৩০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে মরিচের দাম। একদিন আগেও ৬০০ টাকায় বিক্রি হওয়া কাঁচামরিচ রোববার (২ জুলাই) বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা কেজি।

সবগুলো বন্দর দিয়ে কাঁচামরিচ আমদানি শুরু হলে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম কমবে বলে দাবি আমদানিকারকদের। এছাড়া দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে মানুষ কাঁচামরিচ কম কিনছেন বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

শহরের রাজাবাজার ও ফতেহআলী বাজার ঘুরে দেখা যায়, রোববার সকালে প্রতিকেজি কাঁচামরিচ খুচরা বাজারে বিক্রি হয়েছে ৩৬০ থেকে ৪০০ টাকায়। বেলা ১১টার পর মহাস্থান হাট থেকে মরিচ আসার পর দাম কমে ৩০০ টাকা কেজি বিক্রি শুরু হয়। মহাস্থান হাট থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে কিনে পাইকারি ব্যবসায়ীরা বগুড়া শহরে আড়তদারদের কাছে ২৮০ টাকায় বিক্রি করেন। হাতঘুরে সেই মরিচ খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা কেজি দরে।

কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, জেলায় এবার রবি মৌসুমে মরিচের আবাদ হয়েছিল ৯৫০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন হয়েছিল প্রতি হেক্টরে ১৪ মণ। গতবছর মরিচের আবাদ হয়েছিল এক হাজার ২৩৪ হেক্টর জমিতে। গতবছরের চেয়ে চলতি বছর রবি মৌসুমে মরিচের আবাদ কম হয়েছে। কম হওয়ার কারণ দেরিতে বন্যা হওয়া। বন্যা সাধারণত জুলাই মাসে হয়। কিন্তু গতবছর বন্যা হয়েছিল আগস্টে।

 

রবি মৌসুমে মরিচের বীজ বপন করা হয় বন্যার পরপরই আগষ্ট-সেপ্টেম্বরে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে আগস্ট মাসে বন্যার কারণে রবি মৌসুমে মরিচের বীজ বপন করা হয়েছিল অক্টোবর-নভেম্বরে। দেরিতে আবাদ করতে গিয়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়নি।

বর্তমানে খরিপ-১ মৌসুম চলছে। খরিপ-১ মৌসুমে এপ্রিল মাসে মরিচের বীজ বপন করা হয়। গতবছর খরিপ-১ মৌসুমে মরিচের আবাদ হয়েছিল ৮৫০ হেক্টর জমিতে। এবার খরিপ-১ মৌসুমে মরিচের বীজ বপন করা হয়েছিল ৬৫০ হেক্টর জমিতে। একেতো আবাদ কম হয়েছে; তার ওপর এবার মাত্রাতিরিক্ত খরার কারণে বীজের চারা গজায়নি। যে কারণে খরিপ-১ মৌসুমে মরিচের আবাদ কম হয়েছে। ফলে এবার বগুড়াতেই মরিচের চরম সংকট চলছে।

আব্দুল মোমেন নামের রাজাবাজের একজন বিক্রেতা বলেন, ‘বাজারে এখন প্রতিকেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকায়। কেজিতে কমেছে ৩০০ টাকা। ভারতের মরিচ এলে দাম আরও কমবে। মূলত বর্ষার কারণে মরিচের সরবরাহ কম। এতে দাম বেড়েছিল।’

কাঁচামরিচ কিনতে আসা গৃৃহবধূ ফাতেমা জান্নাত বলেন, “কাঁচামরিচ এখন ‘গলার কাঁটা’ হয়ে গেছে। এই দামে কাঁচামরিচ কিনতে গেলে সংসারের বাকি জিনিসপাতি কিনবো কীভাবে? দাম কমেছে, তাই বলে ৩০০ টাকা কেজিতে কাঁচা মরিচ কিনতে হবে? পেঁয়াজ কিনতে গেলে মরিচ কেনা যায় না, মরিচ কিনতে গেলে পেঁয়াজ কেনা যায় না।”

রাজাবাজার আড়তদার ও ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক পরিমল প্রসাদ রাজ জানান, ঈদের জন্য ছয় দিন হিলি বন্দর, বুড়িমারী স্থল বন্দরসহ বিভিন্ন বন্দর বন্ধ ছিল। যে কারণে এলসি করা মরিচের ট্রাক দেশে প্রবেশ করতে পারেনি। সোমবার (৩ জুলাই) থেকে এলসির মরিচের ট্রাক প্রবেশ করবে। ট্রাক প্রবেশ করা মাত্রই মরিচের দাম কমে যাবে। তিনি আরও বলেন, সার্বক্ষণিক বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। অতিরিক্তি দাম আদায়ের সুযোগ নেই।