ঢাকা , বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
Logo অপপ্রচার ঠেকাতে শান্তিগঞ্জে উপজেলা প্রশাসনের বিশেষ আলোচনা সভা Logo ভোটারদের দোয়া ও সমর্থন চেয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় আব্দুল আজিজ Logo মহি উদ্দিন মহিমের অর্থায়নে বুড়ুমপুরে নতুন জামে মসজিদের উদ্বোধন Logo শান্তিগঞ্জে কৃষি ও প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন কৃষকদের জন্য স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার আশ্বাস Logo বিরোধের জেরে প্রশাসনের হেফাজতে শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাব ভবন Logo শান্তিগঞ্জে উচ্চ ফলনশীল আমন ধান চাষে কৃষকদের দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শুরু Logo শান্তিগঞ্জের পাথারিয়া বাজারে যাত্রা শুরু করল আয়ূব আলী মাংসের দোকান Logo পাথারিয়া ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে নগদ অর্থ ও চাল বিতরণ Logo শান্তিগঞ্জের পাথারিয়ায় কৃষকদের নিয়ে উচ্চ ফলনশীল আমন ধান চাষ বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত Logo যুবলীগ নেতা সুহেলের নেতৃত্বে নির্মাণাধীন শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাব ভবনে একক দখলচেষ্টার প্রতিবাদে অপরাংশের তালা

কুড়িগ্রামে বাড়ছে নদ-নদীর পানি, বন্যার কবলে মানুষ

টানা কয়েকদিন ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে কুড়িগ্রামের সবকটি নদ-নদীর পানি প্রবাহ বেড়েছে। এতে প্লাবিত হয়েছে চর ও নিম্নাঞ্চলগুলো। নতুন নতুন চর প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অন্তত ১০ হাজার মানুষ।

ফসলি জমি ও রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। বিশুদ্ধ পানির সংকটে পড়েছেন পানিবন্দি হাজারো মানুষ। ভোগান্তিতে পড়া মানুষদের চলাচলের জন্য নৌকা আর কলা গাছের ভেলাই ভরসা। এ ছাড়া চারণ ভূমি তলিয়ে গো খাদ্যের সংকটও দেখা দিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা, দুধকুমারসহ সবকটি নদ-নদীর পানি আরও বাড়ছে। এতে ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার উলিপুর ও সদর উপজেলার মুসার চর, পুর্ববালাডোবার চর, ফকিরের চর, পোড়ার চরসহ কয়েকটি চরের ঘর-বাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। এসব চরে বসবাসকারী মানুষজন চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেকেই দিনের বেলা ঘর-বাড়ি ছেড়ে উঁচু জায়গায় অবস্থান করলেও কোনো কোনো পরিবারের দিন কাটছে নৌকায়। পানিবন্দি এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবারের সংকট আরও প্রকট হচ্ছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নতুন নতুন চর প্লাবিত হচ্ছে। ফলে দুর্ভোগ আরও বাড়ছে।

মুসার চরের মো. আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, পরশু দিন থেকে পানি বাড়ছে। ঘর বাড়িতে পানি উঠছে। আশপাশে কোনো উঁচু জায়গা নেই। গরু, ছাগল মাটির ডিবি করে উপরে রাখছি। আমাদের কষ্ট শুরু হলো।

একই এলাকার আছিয়া বেগম বলেন, গত মাসে নদী ভেঙে এ চরে আসছি। জমি-জমা নেই, নিচু জায়গায় বাড়ি করা ছাড়া উপায় ছিল না। বাচ্চাদের নিয়ে খুবই দুশ্চিন্তা হয়। কখন না জানি কোন অঘটন ঘটে। পানি খুবই বাড়তেছে, এখন থাকা আর খাওয়ার কষ্ট খুব হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আগামী ২২ ও ২৩ জুন প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা রয়েছে। এসময় সাময়িক বন্যা হতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদি বন্যা হওয়ার ভয় নেই।

জেলা প্রশাসক সাইদুল আরীফ বলেন, বন্যা মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলায় ৫৪১ মেট্রিক টন চাল, নগদ ১০ লাখ ২১ হাজার টাকা ও শুকনো খাবার মজুত রয়েছে। এরই মধ্যে বিতরণের কাজ শুরু হয়েছে। যেখানে প্রয়োজন হবে তাৎক্ষণিকভাবে বিতরণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

Janasarthe 24

আপনাদের আশে পাশে ঘটে যাওয়া প্রতি মুহুর্তের খবর দিয়ে আমাদের সহযোগীতা করুন। আমরা আমাদের অনলাইনে তা প্রকাশ করে কৃতজ্ঞ হবো। আমাদের প্রতি মুহুর্তের খবর জানতে আমাদের সাথে থাকুন
জনপ্রিয় সংবাদ

অপপ্রচার ঠেকাতে শান্তিগঞ্জে উপজেলা প্রশাসনের বিশেষ আলোচনা সভা

কুড়িগ্রামে বাড়ছে নদ-নদীর পানি, বন্যার কবলে মানুষ

আপডেট সময় ১২:৩৬:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জুন ২০২৩

টানা কয়েকদিন ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে কুড়িগ্রামের সবকটি নদ-নদীর পানি প্রবাহ বেড়েছে। এতে প্লাবিত হয়েছে চর ও নিম্নাঞ্চলগুলো। নতুন নতুন চর প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অন্তত ১০ হাজার মানুষ।

ফসলি জমি ও রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। বিশুদ্ধ পানির সংকটে পড়েছেন পানিবন্দি হাজারো মানুষ। ভোগান্তিতে পড়া মানুষদের চলাচলের জন্য নৌকা আর কলা গাছের ভেলাই ভরসা। এ ছাড়া চারণ ভূমি তলিয়ে গো খাদ্যের সংকটও দেখা দিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা, দুধকুমারসহ সবকটি নদ-নদীর পানি আরও বাড়ছে। এতে ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার উলিপুর ও সদর উপজেলার মুসার চর, পুর্ববালাডোবার চর, ফকিরের চর, পোড়ার চরসহ কয়েকটি চরের ঘর-বাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। এসব চরে বসবাসকারী মানুষজন চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেকেই দিনের বেলা ঘর-বাড়ি ছেড়ে উঁচু জায়গায় অবস্থান করলেও কোনো কোনো পরিবারের দিন কাটছে নৌকায়। পানিবন্দি এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবারের সংকট আরও প্রকট হচ্ছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নতুন নতুন চর প্লাবিত হচ্ছে। ফলে দুর্ভোগ আরও বাড়ছে।

মুসার চরের মো. আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, পরশু দিন থেকে পানি বাড়ছে। ঘর বাড়িতে পানি উঠছে। আশপাশে কোনো উঁচু জায়গা নেই। গরু, ছাগল মাটির ডিবি করে উপরে রাখছি। আমাদের কষ্ট শুরু হলো।

একই এলাকার আছিয়া বেগম বলেন, গত মাসে নদী ভেঙে এ চরে আসছি। জমি-জমা নেই, নিচু জায়গায় বাড়ি করা ছাড়া উপায় ছিল না। বাচ্চাদের নিয়ে খুবই দুশ্চিন্তা হয়। কখন না জানি কোন অঘটন ঘটে। পানি খুবই বাড়তেছে, এখন থাকা আর খাওয়ার কষ্ট খুব হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আগামী ২২ ও ২৩ জুন প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা রয়েছে। এসময় সাময়িক বন্যা হতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদি বন্যা হওয়ার ভয় নেই।

জেলা প্রশাসক সাইদুল আরীফ বলেন, বন্যা মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলায় ৫৪১ মেট্রিক টন চাল, নগদ ১০ লাখ ২১ হাজার টাকা ও শুকনো খাবার মজুত রয়েছে। এরই মধ্যে বিতরণের কাজ শুরু হয়েছে। যেখানে প্রয়োজন হবে তাৎক্ষণিকভাবে বিতরণ করা হবে বলেও জানান তিনি।