ঢাকা , শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
Logo শান্তিগঞ্জে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল মমিনের উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত Logo শান্তিগঞ্জে জামিল আহমদের উঠান বৈঠক নির্বাচিত হলে ইউপি কার্যালয়ের জন্য বিনা মূল্যে জমি দেওয়ার ঘোষণা Logo শান্তিগঞ্জে জমকালো আয়োজনে বনফুলের নতুন শাখার উদ্বোধন Logo শান্তিগঞ্জে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য-পুষ্টি উন্নয়নে কর্মশালা Logo শান্তিগঞ্জে ২৮ অক্টোবরের শহীদদের স্মরণে জামায়াতের আলোচনা সভা ও দোয়া Logo আসন্ন ইউপি নির্বাচন ঘিরে শান্তিগঞ্জে চেয়ারম্যান প্রার্থী জামিল আহমদের উঠান বৈঠক Logo শান্তিগঞ্জে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে ১০ম নোয়াখালী প্রিমিয়ার লীগের শুভ উদ্বোধন Logo ইতিহাসবিদ ড. মুমিনুল হক অ্যাওয়ার্ড পেলেন শান্তিগঞ্জের তৈয়বুর রহমান Logo সাংবাদিক আলিফ হত্যার প্রতিবাদে শান্তিগঞ্জে মানববন্ধন Logo শান্তিগঞ্জে সম্প্রসারিত বিট পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত

আবারও আলোচনায় ডেভিল ‘সুহেল’: আওয়ামী লীগের পর বিএনপির অনুষ্ঠানে ফুলেল শুভেচ্ছা, শিক্ষকদের ক্ষোভ

ডেক্স রিপোর্ট:
সিলেটের শামীমাবাদে অবস্থিত মইন উদ্দিন আদর্শ মহিলা কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এনামুল হক চৌধুরী সুহেলকে ঘিরে আবারও আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আওয়ামীপন্থী শিক্ষক ও রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে পরিচিত থাকলেও সম্প্রতি বিএনপির বিভিন্ন নেতার সঙ্গে তার প্রকাশ্য উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কলেজের একাধিক শিক্ষক।
সম্প্রতি সিলেট বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কয়েস লোদী মইন উদ্দিন আদর্শ মহিলা কলেজের গভর্নিং কাউন্সিলের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর কলেজের পক্ষ থেকে তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। ওই অনুষ্ঠানে এনামুল হক চৌধুরী সুহেলের উপস্থিতি এবং ফুলেল শুভেচ্ছা জানানোর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের একটি অংশের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।
শিক্ষকদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ সময় ধরে সুহেল নিজেকে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দিয়ে কলেজে প্রভাব বিস্তার করেছেন। বিশেষ করে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিতি ব্যবহার করে তিনি কলেজের প্রশাসনিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে প্রভাব খাটাতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তন হলে সুহেল তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে আওয়ামী লীগ ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনের বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয় সরিয়ে ফেলেন। এরপর বর্তমানে বিএনপির নেতাদের সঙ্গে প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তারা।
একাধিক শিক্ষক বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের এই প্রবণতা নিয়ে তারা বিস্মিত। তাদের ভাষ্য, অতীতে যারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগে কলেজে প্রভাব বিস্তার করেছেন, তাদের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
এদিকে কলেজের সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন শিক্ষকের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান ও এনামুল হক চৌধুরী সুহেলকে ঘিরে একটি প্রভাবশালী বলয় কলেজের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছে। এই বলয়ের কারণে সাধারণ শিক্ষকরা বিভিন্ন সময় হয়রানি ও অন্যায় আচরণের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
তারা আরও অভিযোগ করেন, কলেজের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে অতীতেও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ২০২০ সালে কলেজের মাঠ ভরাটের সরকারি অর্থ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। সে সময় লিখিত অভিযোগ ও প্রশাসনের সরেজমিন তদন্তের পর অর্থ ফেরত দেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট একজন শিক্ষক। তাইএসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি ও উভয় পক্ষের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শিক্ষকদের একটি অংশ এখন অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান ও এনামুল হক চৌধুরী সুহেলের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আর্থিক কর্মকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছেন। একই সঙ্গে অতীতে কলেজের বিভিন্ন কমিটি ও প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব পালনকালে আয়-ব্যয়ের হিসাবও প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তারা।
শিক্ষকদের প্রশ্ন—রাজনৈতিক পরিচয়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কি অতীতের কর্মকাণ্ডের দায়ও পরিবর্তন হয়ে যায়? তাদের মতে, কেউ আওয়ামী লীগ, বিএনপি কিংবা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন কি না, সেটিই মূল বিষয় নয়; বরং কলেজের দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা জরুরি।
অন্যদিকে কলেজের শিক্ষকরা জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে তারা শিগগিরই সভা করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবেন।

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

Janasarthe 24

আপনাদের আশে পাশে ঘটে যাওয়া প্রতি মুহুর্তের খবর দিয়ে আমাদের সহযোগীতা করুন। আমরা আমাদের অনলাইনে তা প্রকাশ করে কৃতজ্ঞ হবো। আমাদের প্রতি মুহুর্তের খবর জানতে আমাদের সাথে থাকুন
জনপ্রিয় সংবাদ

শান্তিগঞ্জে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল মমিনের উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত

আবারও আলোচনায় ডেভিল ‘সুহেল’: আওয়ামী লীগের পর বিএনপির অনুষ্ঠানে ফুলেল শুভেচ্ছা, শিক্ষকদের ক্ষোভ

আপডেট সময় ১১:৩৬:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডেক্স রিপোর্ট:
সিলেটের শামীমাবাদে অবস্থিত মইন উদ্দিন আদর্শ মহিলা কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এনামুল হক চৌধুরী সুহেলকে ঘিরে আবারও আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আওয়ামীপন্থী শিক্ষক ও রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে পরিচিত থাকলেও সম্প্রতি বিএনপির বিভিন্ন নেতার সঙ্গে তার প্রকাশ্য উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কলেজের একাধিক শিক্ষক।
সম্প্রতি সিলেট বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কয়েস লোদী মইন উদ্দিন আদর্শ মহিলা কলেজের গভর্নিং কাউন্সিলের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর কলেজের পক্ষ থেকে তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। ওই অনুষ্ঠানে এনামুল হক চৌধুরী সুহেলের উপস্থিতি এবং ফুলেল শুভেচ্ছা জানানোর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের একটি অংশের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।
শিক্ষকদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ সময় ধরে সুহেল নিজেকে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দিয়ে কলেজে প্রভাব বিস্তার করেছেন। বিশেষ করে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিতি ব্যবহার করে তিনি কলেজের প্রশাসনিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে প্রভাব খাটাতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তন হলে সুহেল তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে আওয়ামী লীগ ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনের বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয় সরিয়ে ফেলেন। এরপর বর্তমানে বিএনপির নেতাদের সঙ্গে প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তারা।
একাধিক শিক্ষক বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের এই প্রবণতা নিয়ে তারা বিস্মিত। তাদের ভাষ্য, অতীতে যারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগে কলেজে প্রভাব বিস্তার করেছেন, তাদের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
এদিকে কলেজের সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন শিক্ষকের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান ও এনামুল হক চৌধুরী সুহেলকে ঘিরে একটি প্রভাবশালী বলয় কলেজের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছে। এই বলয়ের কারণে সাধারণ শিক্ষকরা বিভিন্ন সময় হয়রানি ও অন্যায় আচরণের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
তারা আরও অভিযোগ করেন, কলেজের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে অতীতেও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ২০২০ সালে কলেজের মাঠ ভরাটের সরকারি অর্থ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। সে সময় লিখিত অভিযোগ ও প্রশাসনের সরেজমিন তদন্তের পর অর্থ ফেরত দেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট একজন শিক্ষক। তাইএসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি ও উভয় পক্ষের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শিক্ষকদের একটি অংশ এখন অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান ও এনামুল হক চৌধুরী সুহেলের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আর্থিক কর্মকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছেন। একই সঙ্গে অতীতে কলেজের বিভিন্ন কমিটি ও প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব পালনকালে আয়-ব্যয়ের হিসাবও প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তারা।
শিক্ষকদের প্রশ্ন—রাজনৈতিক পরিচয়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কি অতীতের কর্মকাণ্ডের দায়ও পরিবর্তন হয়ে যায়? তাদের মতে, কেউ আওয়ামী লীগ, বিএনপি কিংবা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন কি না, সেটিই মূল বিষয় নয়; বরং কলেজের দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা জরুরি।
অন্যদিকে কলেজের শিক্ষকরা জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে তারা শিগগিরই সভা করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবেন।